Family discussions

বিয়ের নিবন্ধন (কাবিননামা) কেন জরুরি, কীভাবে করবেন

Sh
ShadiMaker টিম9 October 2026 · 4 min read
বিয়ের নিবন্ধন (কাবিননামা) কেন জরুরি, কীভাবে করবেন

বিয়ে নিবন্ধন না করলে পরে মেয়ে ও সন্তানের অধিকার নিয়ে বড় ঝামেলা হতে পারে। কাবিননামা কী, কেন লাগে, কী দেখে সই করবেন।

অনেক পরিবার মনে করেন, ধর্মীয়ভাবে বিয়ে পড়ানো হলেই সব হয়ে গেল। কিন্তু বাংলাদেশে বিয়ের নিবন্ধন করা আইনত বাধ্যতামূলক, আর এটা স্বামী-স্ত্রী দুজনের — বিশেষ করে মেয়ের — অধিকার রক্ষার সবচেয়ে বড় কাগজ।

কাবিননামা কী?

মুসলিম বিয়েতে সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) যে সরকারি ফর্মে বিয়ের তথ্য লেখেন, সেটাই কাবিননামা বা নিকাহনামা। এতে থাকে:

  • বর-কনের নাম, ঠিকানা আর বয়স
  • দুই পক্ষের অভিভাবক ও সাক্ষীদের নাম
  • দেনমোহরের পরিমাণ — কতটা নগদ, কতটা বাকি
  • স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি না (তালাক-ই-তাওফিজ)
  • আগের কোনো বিয়ে আছে কি না

হিন্দু বিয়ের ক্ষেত্রেও এখন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী নিবন্ধনের ব্যবস্থা আছে, আর অন্য ধর্মের জন্যও আলাদা আইন আছে। নিজের ক্ষেত্রে কোনটা প্রযোজ্য, স্থানীয় রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে জেনে নিন।

নিবন্ধন কেন জরুরি

  • দেনমোহর আদায়: দেনমোহর নিয়ে ঝামেলা হলে কাবিননামাই প্রমাণ।
  • ভরণপোষণ: স্ত্রী ও সন্তানের খরচ পাওয়ার অধিকার আদালতে প্রমাণ করতে লাগে।
  • সন্তানের পরিচয়: জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, উত্তরাধিকার — সব জায়গায় বাবা-মায়ের বিয়ের প্রমাণ কাজে লাগে।
  • উত্তরাধিকার: স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে সম্পত্তির ভাগ পেতে।
  • বিদেশ যাওয়া: স্বামী/স্ত্রীর ভিসা বা ইমিগ্রেশনে বিয়ের সনদ চাওয়া হয়।
  • বাল্যবিবাহ ও প্রতারণা রোধ: নিবন্ধনের সময় বয়স যাচাই হয়, আগের বিয়ে লুকানো কঠিন হয়।

বিয়ের বৈধ বয়স: মেয়েদের ১৮ আর ছেলেদের ২১ বছর। এর কম বয়সে বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ। ShadiMaker-এও এর কম বয়সে প্রোফাইল খোলা যায় না।

সই করার আগে যা দেখে নেবেন

  1. সব ঘর পূরণ হয়েছে কি না। খালি ঘর রেখে সই করবেন না, পরে কেউ সেখানে কিছু লিখে দিতে পারে।
  2. দেনমোহরের অঙ্ক ঠিক যা কথা হয়েছিল তা-ই লেখা আছে কি না — অঙ্কে আর কথায় দুইভাবেই।
  3. নাম-ঠিকানার বানান জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের সাথে মিলছে কি না।
  4. ১৮ নম্বর ঘর (তালাকের ক্ষমতা) নিয়ে দুই পক্ষের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিন, ঘরটি না বুঝে কেটে দেবেন না।
  5. সই করার পর কাবিননামার সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করুন, আর কয়েকটি ফটোকপি নিরাপদে রাখুন।

কোথায়, কীভাবে

  • এলাকার সরকারি নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী অফিস) মাধ্যমে নিবন্ধন হয়। রেজিস্ট্রার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেও নিবন্ধন করতে পারেন।
  • বর-কনের জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি আর সাক্ষীদের তথ্য সাথে রাখুন।
  • নিবন্ধন ফি সরকার নির্ধারিত, দেনমোহরের অঙ্কের ওপর নির্ভর করে। রসিদ চেয়ে নিন।
  • রেজিস্ট্রার আসল কি না সন্দেহ হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে খোঁজ নিন।

বিয়ে আনন্দের দিন। কিন্তু সেদিন একটু সময় নিয়ে কাগজপত্র ঠিকভাবে করলে সারা জীবন দুই পরিবার নিশ্চিন্তে থাকতে পারে।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যায় একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

Share this article
Looking for a suitable proposal?Create your profile on ShadiMaker today.
Create a profile