বিয়ের দোয়া: নবদম্পতির জন্য সুন্নাহসম্মত দোয়া, অর্থসহ
বিয়ের পর নবদম্পতিকে কোন দোয়া দেবেন, ভালো জীবনসঙ্গীর জন্য কী দোয়া করবেন, আর ইস্তিখারা কখন করবেন — হাদিস ও কুরআনের সূত্রসহ।
বিয়ে একটি ইবাদত, আর এর প্রতিটি ধাপে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া সুন্নাহ। এই লেখায় বিয়ে-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রসিদ্ধ দোয়া অর্থ ও সূত্রসহ তুলে ধরা হলো।
বাংলা অক্ষরে আরবি উচ্চারণ পুরোপুরি সঠিকভাবে লেখা সম্ভব নয়। শুদ্ধ উচ্চারণের জন্য আরবি পাঠ দেখে নিন, বা একজন আলেমের কাছে শিখে নিন।
নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানানোর দোয়া
বিয়ের পর কাউকে অভিনন্দন জানাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ এই দোয়া পড়তেন:
بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ
উচ্চারণ: বা-রাকাল্লা-হু লাকা, ওয়া বা-রাকা 'আলাইকা, ওয়া জামা'আ বাইনাকুমা ফী খাইর।
অর্থ: আল্লাহ তোমার জন্য বরকত দিন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের দুজনকে কল্যাণের সাথে একত্র রাখুন।
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ (২১৩০), জামে তিরমিজি (১০৯১)।
"সুখী হও" বা "শুভ বিবাহ" বলার পাশাপাশি এই দোয়াটি বললে অভিনন্দনটি সুন্নাহ অনুযায়ী হয়।
স্ত্রী বা স্বামীর জন্য কল্যাণ চাওয়ার দোয়া
বিয়ের পর প্রথম সাক্ষাতে স্বামী স্ত্রীর কপালে হাত রেখে এই দোয়া পড়বেন বলে হাদিসে এসেছে:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে তার কল্যাণ এবং যে স্বভাবের ওপর আপনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তার কল্যাণ চাই; আর তার অনিষ্ট ও তার স্বভাবের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ (২১৬০), সুনানে ইবনে মাজাহ (১৯১৮)।
সুন্দর সংসার ও নেক সন্তানের দোয়া
কুরআনে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের একটি দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রাব্বানা হাব লানা মিন আযওয়া-জিনা ওয়া যুররিয়্যা-তিনা কুররাতা আ'ইউনিওঁ ওয়াজ'আলনা লিলমুত্তাকীনা ইমা-মা।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী-স্বামী ও সন্তানদের আমাদের জন্য চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন, এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।
সূত্র: সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭৪।
ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য দোয়া
জীবনসঙ্গীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক নয়; নিজের ভাষায় আন্তরিকভাবে চাওয়াই যথেষ্ট। অনেকে মুসা (আ.)-এর এই দোয়াটি পড়েন, যা তিনি এক কঠিন সময়ে করেছিলেন এবং এরপর আল্লাহ তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন:
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নী লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর।
অর্থ: হে আমার রব, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণই নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।
সূত্র: সূরা আল-কাসাস, আয়াত ২৪।
প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধা থাকলে ইস্তিখারা
কোনো প্রস্তাবে মন স্থির করতে না পারলে ইস্তিখারার নামাজ পড়া সুন্নাহ। দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ইস্তিখারার দোয়া পড়তে হয়। দোয়াটি সহিহ বুখারিতে (১১৬২) বর্ণিত হয়েছে; শুদ্ধভাবে শিখতে একটি নির্ভরযোগ্য দোয়ার বই বা আলেমের সাহায্য নিন।
মনে রাখবেন, ইস্তিখারা মানে স্বপ্নের অপেক্ষা নয়। দোয়ার পর পরিবারের সাথে পরামর্শ করুন, খোঁজখবর নিন, তারপর যে দিকে মন স্থির হয় সেদিকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে এগিয়ে যান।
দ্বীনদার জীবনসঙ্গী খুঁজছেন? দেখুন মুসলিম ম্যাট্রিমনি পেজ, যেখানে মাযহাব ও ধর্মীয় অনুশীলন অনুযায়ী খোঁজা যায়।